পাকা আম আনেক দিন কি ভাবে সংরক্ষণ রাখবেন

 গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো আমের মৌসুম পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রাণ আর সুস্বাদু, এ সময়ে অন্যতম বাজারে এখন প্রচুর পাকা আম পাওয়া যাচ্ছে, দামে সস্তা তাই এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে পুরো বছরের জন্য পাকা আম সংরক্ষণ কিভাবে করে রাখবো , নতুনদের জন্য এই আর্টিকেলট,

প্রিয় ফলটি খেতে অপেক্ষা করতে হয় পরবর্তী গ্রীষ্ম পর্যন্ত সামনে বছর। তবে চাইলে সঠিক পদ্ধতিতে পাকা আম  সংরক্ষণ কি করে রাখবো , এক  বছর   রেখে খেতে পারবেন কাঁচা পাকা আম,  ঠিকভাবে রাখলে    ১২ থেকে ৬ মাস  পর্যন্ত ভালো থাকে এবং সাধ টেস্ট গুনাগুনও  ঠিক থাকবে । চলুন জেনে নিই পাকা আম অনেকদিন কিভাবে সংরক্ষণ রাখবে,

পেজ সূচিপত্রঃ  পাকা আম অনেকদিন কিভাবে সংরক্ষণ রাখবেন

পাকা আম অনেকদিন কিভাবে সংরক্ষণ করে রাখবেন

ভালো মানের আম বেছে সংরক্ষণ করতে হবে, এমন আম নির্বাচন করুন যা পুরোপুরি পাকা মিষ্টি। এবং সতেজ অতিরিক্ত নরম পাকা বা কালচে দাগ মুক্ত আম ব্যবহার না করাই ভালো , ভালো মানের আম সংরক্ষণ করাই ভালো । এরপর  আমগুলো প্রথমে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর পানি ঝরিয়ে নিন।  একটি শুকনো  কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিন যাতে খোসায় কোন ভেজানা থাকে, 

আদ্রতা থেকে গেলে ফ্রিজের বরফ জমে ফলের সাধ  ও গঠন নষ্ট হতে পারে, এরপর সমান আকারের টুকরো করে খোঁচা ছাড়িয়ে আটটি থেকে  আলাদা করে ছোট বা মাঝাড়ি  আকারের সমান টুকরো করে কেটে নিতে হবে। একই  আকারে টুকরো গুলো সেগুলো সমানভাবে ব্যবহার করতে সুবিধা হবে ট্রেতে ছড়িয়ে ফ্রিজে রাখুন কাটা আমের টুকরো গুলো এমন ভাবে সাজান যাতে আরেকটি সঙ্গে আরেকটা লেগে না যায়

ডিপ ফ্রিজে কিউব করে কিভাবে সংগ্রহ করবেন

 সব আম গুলো  শক্ত হয়ে গেলে , পলি ব্যাগে প্লাস্টিক ব্যাগে ভালো করে সংগ্রহ করুন ব্যাগে যতটা সম্ভব কম বাতাস রাখার চেষ্টা করুন এতে আমের জন্য ভালো দীর্ঘ দিন বজায় থাকবে ,কতদিন ভালো থাকবে এই নিয়মে মেনে সংগ্রহ করলে আমের টুকরো সাধারণত ছয় থেকে  বারো মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে, এ সময়ের মধ্যে সহজেই আইসক্রিম ফলের কিংবা বিভিন্ন মিঠাই তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে

একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ যতটুকু প্রয়োজন সেবল ততটুকুই আম ফ্রিজে থেকে বের করবেন যথেষ্ট অবশিষ্ট অংশ দ্রুত আবার ফ্রিজে রেখে দিন ব্যবহার করার প্রায় পাঁচ মিনিটের আগে আম রেখে বের করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে  সাদ টেস্ট আরো ভালো থাকবে, আমের খোসা ছাড়িয়ে ভালো করে হাত দিয়ে চটকে নিন এরপর বোতলে জুসের মতো করে সংগ্রহ করে রাখুন।


কাঁচা- পাকা-আম- সংরক্ষণ


কাঁচা আম কিভাবে সংরক্ষণ করে রাখবেন

এবার কাঁচা আম কিভাবে সংরক্ষণ করে রাখবেন আমরা কাঁচা আম খেতে সবাই পছন্দ করি সিজন ফুরিয়ে গেলে কাঁচা আম আর পাওয়া যায় না, এজন্য কাঁচা আম সংরক্ষণ করে রাখবো ঘরোয়া পদ্ধতিতে, কাঁচা আম খোসা ছাড়া বা খোসা সহ শক্ত বটি দিয়ে বিচি সহ কেটে নিতে হবে টুকরো টুকরো করে সাইজ মত কেটে নিতে হবে তারপরে ডিপ ফ্রিজে পলি প প্যাকেট করে রেখে দিন

আবার কাঁচা আম  সিদ্ধ করে রোদে শুকিয়ে ভালোমতো রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করে রাখতে পারি অনেকটা আচারের মতো বলা যেতে পারে আচার যেভাবে সংরক্ষণ করা হয় আমের আচার বছর পর্যন্ত থাকে কাঁচা আমের আচার কাচের  বৈয়ম সংগ্রহ করতে হবে এটা আমরা সকলেই জানি কিন্তু সময় নিয়ে করতে হবে,

পাকা আমের আমসত্ত্ব কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে করবেন

 পাকা আমের আমতা আমসত্ত্ব হলে ক্যমন হইয়,আমরা মনে করি পাকা আম সংরক্ষণ করে রাখবো অন্যরকম তাহলে খুব বেশি রসালো পাকা আম হলে ভালো হয় অনেক রসালো পাকা আম হাত দিয়ে খোসা ছাড়ানো যায় খোসা ছাড়ানো  পরে  আমটাকে ভালোভাবে হাত দিয়ে চটকে নিব এরপর আলাদা করে রেখে দেবো তারপর পাকা আম এর আমতা বানানোর জন্য চুলায় হালকা আচে জাল করতে হবে 

এরপর কিছুক্ষণ চুলাই হালকা আচে জাল দিয়ে ঘন করে হবে ,যতক্ষণ চুলায় জাল দেয়া হবে ততক্ষণ নাড়াচাড়া করে ঘন করে হালকা আচে নাড়তেই থাকতে হবে, সাদের জন্য পরিমাণ মতো লবণ ,হলুদ পরিমান মত মরিচের গুড়ো মিস করতে হবে , এরপর মিশ্রণটি ভালোভাবে ঘন হয়ে আসলে চুলা থেকে নামিয়ে  নিতে হবে, এরপর ট্রেতে করে পাতলা করে ছড়িয়ে মেলে করে দিতে হব , কড়া  রোদে শুকাতে দিতে হবে,

 এইভাবে কড়া রোদে চার থেকে পাঁচ দিন শুকাতে হবে ,রোদে সুকানো  পরে, আমসত্ত্ব রেডি,  এবার আপনার ইচ্ছে মতন সাইজ দিয়ে আমসত্ত্ব পিস পিস করে নিযের পছন্দ মত কেটে নিন, এই আমসত্ত্ব আপনি ঘরে রেখে কয়েক মাস খেতে পারবেন

নরমাল ফ্রিজে পাকা আম রাখার নিয়ম

পুরোপুরি পাকা ওয়াজ তো আম খবরের কাগজে বা মোটা কাগজে মুড়িয়ে নরমাল ফ্রিজে রাখলে পাঁচ থেকে সাত দিন ভালো থাকে, তবে আম কাঁচা হলে ফ্রিজে রাখা যাবে না কারণ এটি আমের স্বাভাবিক পাকা প্রতিক্রিয়াকে বাধা গ্রস্থ করে এবং ছাদ নষ্ট করে ফেল, আস্ত পাকা আম প্লাস্টিক পলিথিনে ব্যবহার না করে কাগজ বা পেপার মুড়িয়ে নরমাল ফ্রিজে রাখুন তার থেকে ৫ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলার জন্য

ফ্রিজ থেকে বের করার পর সরাসরি না খেয়ে , খাওয়ার আগে 15,20 মিনিট ধরে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিন তারপর মিষ্টি ভাব ঠিক থাকবে।

পাকা কাচা  আমের পিউরি কিভাবে করবেন

তৈরি তৈরি করতে প্রথমে আমগুলো ভালো করে ধুয়ে প্রসেস ছাড়িয়ে দিন এরপর আটি থেকে আজ গুলো ছোট ছোট টুকরো করে কেটে ব্লেন্ডারে দিন । আমি নির্বাচনের পরিস্কার পাকা মিষ্টি আম বেছে নিন ভালো করে খোঁচাও আটি আলাদা করে শুধুমাত্র আমের টুকরাগুলো কোন পানি ছাড়াই ভালো করে ব্লেন্ড করুন মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে পিউরি তৈরি হলে সেটি একটি বাটিতে ঢেলে নিন যদি আম খুব গুতাবে সাবেক স্বাদমতো সামান্য চিনি মধুর সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন, সিউড়ি বায়ু রোধই পাত্রে ভরে এবং কাঁচের বোতলে প্লাস্টিকের বোতলে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন নরমাল ফ্রিজে 5 থেকে সাত দিন রেখে খাওয়া যাবে , ডিপ ফ্রিজ  রেখে পাঁচ থেকে ছয় মাস রেখে খাওয়া যেতে পারে,

একইভাবে কাঁচা আম ও আপনি ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে কাঁচা আম সংরক্ষণ  করে রাখতে পারেন,

পাকা আমের   পোয়া পিঠা পাটিসাপটা পিঠা তৈরি

ফলের রাজা আম সুস্বাদু হয়ে ফল খেতে পছন্দ করেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন আম দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তৈরি রেসিপি অনেকেই জানেন, আমরা যে সাধারণত পোয়া পিঠা খাই সে ছাদে একটু ভিন্নতা আনতে পারে আম বাড়িতে যদি পাকা আম থাকে তাহলে আজ ঝটপট তৈরি করে ফেলে পারবেন পাকা আমের সুস্বাদুয়া পিঠা, পোয়া পিঠ, পাটিসাপটা পিঠ,

পাকা আম দিয়ে খুব সহজে সুস্বাদুয়া পিঠা বা টিসাপটা পিঠা তৈরি করা যায়, পাকা আমের পিউরি  ময়দা সুজি চালের গুড়া সামান্য দুধ, স্বাদমতো চিনি একসাথে ঘন ব্যাটার তৈরি করে নিন এরপর গরম তেলে ডুবো তেলে ভেজে নিলে তৈরি হয়ে যাবে চমৎকার পাকা আমের পোয়া পিঠা, 

পাকা আমের পাটিসাপটা পিঠা তৈরি করতে চালের গুড়া ময়দা সুজি পাকা আমের পিউরি   সামান্য চিনি দিয়ে সামান্য ঘন ব্যাটার তৈরি করুন, এরপর চুলায় প্যান বসিয়ে হালকা তেল ব্রাশ করে দিন , এরপর প্যানে ছড়িয়ে দিন , মাঝখানে ক্ষীর সাবা নারিকেলের পুর দিয়ে রোল করে নিলেই তৈরি দারুন সুস্বাদু পাকা আমের পাটিসাপট

ক্ষীরসা তৈরিঃ একটি পেনে দুধ জাল দিয়ে ঘন করে নিন, এরপর পরিমাণ মতো  সুজি ভাল করে সিদ্ধ করে নিন এরপর একে একে নারিকেল , কিসমি, কাঠ বাদা, বাদাম, খেজুর এক চিমটি লবণ স্বাদমতন চিনি,সব একসাথে মিস করে শক্ত করে  পুট করে নিন, 

 আটার ব্যাটার তৈরিঃ একটি পাত্রের চালের গুঁড়ো ময়দা চিনি এবং সামান্য লবন মিশিয়ে নিন এরপর পাকা আমের অল্প করে  পিউরি দিয়ে ভালো করে মিস করে নিন, এরপর অল্প অল্প করে পানি বা দুধ ঢেলে ঘন করে ব্যাটার তৈরি করুন মিশ্রণটি ১০-১৫ মিনিট ঢেকে রাখু,

পিঠা ভাজাঃ ননস্টিক তাওয়াই বা প্যানে সামান্য কি বা তেল ব্রাশ করে গরম করুন মাঝে দিয়ে গোল করে ছড়িয়ে দিন, ভাজ কর, আজ মাঝারি রেখে পিঠার উপরে এক পাশে লম্বা করে ঠিক চাঁদপুর দিন এরপর সাবধানে পিঠা টেরল করে ভাজ করে নিন 

পরিবেশনঃ এভাবে একে একে সব পিঠা ভেজে নামিয়ে নিন ঠান্ডা বা গরম পরিবেশন করুন দারুন স্বাদের পাকা আমের তুলতুলে নরম পাটিসাপটা। 









এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url